করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যু—দুটোতেই সব দেশকে অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বে মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রায় এক–তৃতীয়াংশই ক্ষমতাধর ওই দেশে।
যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ও প্রাণহানির সংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যাও ব্যাপক ঊর্ধ্বগামী। এর মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, তাঁর দেশ করোনার সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পার করে ফেলেছে। তাই এখনই তিনি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের লকডাউন (নিষেধাজ্ঞা) তুলে নিতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ব্যবসা–বাণিজ্য খুলে দিতে বৃহস্পতিবার তিন দফা পরিকল্পনাও পেশ করেছেন ট্রাম্প।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই পরিকল্পনার বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়েছেন মিনেসোটা, মিশিগান, ভার্জিনিয়া ও নিউইয়র্কের মতো বড় অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা। তাঁরা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পরিবর্তে আরও কঠোরতা অবলম্বন করেছেন। আর তাতেই বেজায় চটেছেন ট্রাম্প। লকডাউন বজায় রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভও শুরু করেছেন কিছু মানুষ। সেই বিক্ষোভের সমর্থন জানিয়ে শুক্রবার ট্রাম্প একাধিক টুইট করেন। টুইটে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মিনেসোটা মুক্ত কর, মিশিগান মুক্ত কর। এরপর মুক্ত কর ভার্জিনিয়া।’
বিশ্বে মোট মৃত্যু দেড় লাখ ছাড়িয়েছে
আক্রান্ত সাড়ে ২২ লাখের বেশি
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু প্রায় ৩৮ হাজার
আক্রান্ত সাড়ে ২২ লাখের বেশি
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু প্রায় ৩৮ হাজার
যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবমতে, গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বিশ্বে করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে ২২ লাখ ৫৯ হাজারের মতো। মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ৫৪ হাজারের ওপরে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যথাক্রমে ৭ লাখ ৭ হাজার এবং ৩৭ হাজারের ওপরে। স্পেনে মৃত্যু ছাড়িয়েছে ২০ হাজার। আক্রান্ত ১ লাখ ৯১ হাজারের মতো। করোনাভাইরাসে ইউরোপের দুরবস্থার শুরুটা হয়েছিল ইতালি দিয়ে। দেশটিতে মারা গেছে ২২ হাজার ৭০০–র বেশি। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজারের মতো। ফ্রান্স ও জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখের কোঠায়। ফ্রান্সে মৃত্যু ২০ হাজার ছুঁই ছুঁই করলেও জার্মানিতে মৃত্যুর হার অনেক কম, সাড়ে ৪ হাজারের মতো। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে মৃত্যু ও আক্রান্ত দুটোই ঊর্ধ্বগামী যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজারের মতো। মারা গেছে প্রায় ১৫ হাজার।
এই মহামারির মধ্যে যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁর জন্মদিনে সামরিক বাহিনীর ‘গান স্যালুট’ অনুষ্ঠান বন্ধ করেছেন। তাঁর সিংহাসনে আরোহণের ৬৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। করোনা মহামারির মধ্যে বিশ্বের প্রায় ২৬ কোটি অর্থোডক্স খ্রিষ্টান গণজমায়েত ছাড়াই তাঁদের ইস্টার অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইউরোপের কিছু অংশে সংক্রমণ কমায় সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডে এই সপ্তাহে স্কুল ও দোকান খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে জাপান, যুক্তরাজ্য ও মেক্সিকো বর্তমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়েছে।
খবর এএফপির।

(0) Comments
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন